ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার। ক্যালসিয়াম এর অভাব জনিত লক্ষণ

ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার গুলো হলো : ডাল , দুধ , পনির , ডিম ইত্যাদি। দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমানের ক্যালসিয়াম যা আমাদের শরীলের জন্য উপাকারী। একটি মানুষের প্রতিদিন ১০০০গ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়া প্রয়োজন।

  • বিভিন্ন খাবার খেকে আমরা ক্যালসিয়াম পাই।

  • খেজুর ও বাদাম অনেক ক্যালসিয়াম থাকে।

  • ডালে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে এবং এক কাপ মুগ ডালে ক্যালসিয়াম থাকে ৩০০ মিলিগ্রাম।

  • এছাড়াও ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে অনেক ক্যালসিয়াম থাকে।

হারে মাধ্যমে আমাদের শরীরে কাঠামো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । কয়েকটি খাবার আছে আমাদের শরীরে জন্য মারাত্মক ক্ষতি করে তাদের মধ্যে রয়েছে সোডিয়াম বা লবণ । হাড়ের কাঠামো সচল রাখতে ক্যালসিয়ামের গুরত্বপূরর্ণ ভূমিকা রাখে।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের খাবার রয়েছে যেমন: দই , মাস , মাংস এগুলোতে ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম থাকে। দুধে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে ও ল্যাকটোব্যাসিলাস থাকে যা হজমে করতে সহায়তা করে ।

ভিটামিন , প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম ছাড়াও ফরফরাসও জিংক ও মিনারেলের সন্ধান মিলে চিজে। প্রতিদিন চিজও খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে এবং আতিরিক্ত খেলে ওজন বেরে যাবে ।

  • সোয়াবিনের দানায় প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি যেমন বাঁধাকপি , ফুলকপি পালং শাক, লাউ শাক ইত্যাদি এগুলোতে অনেক ক্যালসিয়াম থাকে।

  • শুকনোখাবার এর ফল যেমন বাদাম ও খেজুর এগুলোতে ভালো ক্যালসিয়াম থাকে।

  • অতিরিক্ত খেলে ওজন বেড়ে যাবে। অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের ফলে কনটিপেশন হতে পারে

  • মাছ ও মাংস : যারা আমিষ খেতে ভালোবাসেন তাদের ক্যাসিয়াম যোগান দেয় মাছ ও মাংস ।

  • পুরো শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন ডি এর গুরুত্ব অপরিসীম। সূর্যের আলো আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি এর কাজ করে।

  • ডিমের কুসুম আমাদের শরীরে অনেক উপকার করে। শরীরে ক্যালসিয়াম ভিটামিন ডি এর মাএা বাড়ানোর জন্য ডিমের কুসুম খাওয়া উচিত।

ক্যালসিয়াম এর অভাব জনিত লক্ষণ

ক্যালসিয়ামে রক্তের তাপমাত্রা কম থাকলে হাইপোক্যালসেমিয়া হয়। এটি ক্যালসিয়ামের সাধারণত ঘাটতি রোগ হিসেবে পরিচিত। ছানি , মস্তিষ্কের জটিলতা ও দাতের সমস্যা ক্যালসিয়ামের কারনে দেখা দিতে পারে। আমাদের শরীর ৯৯ শতাংশ ক্যালসিয়াম থাকে ।

  • শিশুদের বিকাশ রোধ হয় ক্যালসিয়ামের অভাবে। ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দেয় যেমন :
  • মাথা ব্যথা
  • ক্লান্তি
  • হতাশ
  • হাত ও পা ঝিঝি ধরে
  • দাতের ক্ষয় আর বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে ইত্যাদি।
  • অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে সরিরে ক্যালসিয়াম ঘাটতি হবে।

ক্যালসিয়াম ভিটামিন ডি এর উন্নতি করে। ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পড়লে ক্যালসিয়ামের অভাব লক্ষ করা যায় ।


ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয় তামাক ও অতিরিক্ত লবণ সেবনের ফলে।

  • ক্যালসিয়ামের ঘাটতি এর লক্ষণ যেমন ; ত্বকের শুকনো
  • ক্লান্ত বোধ হওয়া
  • বুকের ছানিতে ব্যথা
  • হাত অবশ হওয়া
  • উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
  • খিদে না পাওয়া

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পুরন করার জন্য সহজতম চিকিৎসা হলো ডায়েট নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিত। অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট খাইলে কিডনির পাথর হতে পারে । লবণ কম খাওয়া উচিত ।


শরীর ঠিক রাখার জন্য সুষম খাবার খাওয়া জরুরী। আমাদের শরীরে সাহায্য করে খনিজ ও ভিটামিন। এসব খনিজের মধ্যে ক্যালসিয়াম হচ্ছে একটি উপাদান হাড়ে ও দাতের সুরক্ষিত করে।বয়স ও বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে শরীরে ক্যালসিয়াম বেড়ে যায়।

শরীরে ক্যালসিয়াম ঘাটতির ৬টি লক্ষণ

শরীরে ক্যালসিয়াম ঘাটতির ৬টি লক্ষণ
শরীরে ক্যালসিয়াম ঘাটতির ৬টি লক্ষণ


পেশিতে সমস্যা :

ক্যালসিয়ামের অভাবে আমাদের শরীলের পেশিতে ব্যাথা হয় এছাড়াও খিঁচুনি অনুভব হয়। হাত পা নড়াচড়া করা সময় বাহুতে ব্যথা ছাড়াও মুখের চারপাশে অসারতা অনুভব হয়। এধরনে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরার্মশে ক্যালসিয়াম খাওয়া উচিত।

অতিরিক্ত ক্লান্তি :

ক্ল্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে আপনার শরীরে ক্লান্তি সৃষ্টি হতে পারে, অলসতা বোধ করতে পারেন। এছাড়াও হালকা মাথা ব্যথা, মাথা ঘোড়া এবং ব্রেইন ফগও হতে পারে।

নখ ও ত্বকের সমস্যা

ক্যালসিয়াম দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে ত্বক শুকনো, নখ ভঙ্গুর , ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যা দেখা দেয় । ত্বকের চুল কানি, চুল মোটা, একজিমা, সোরিয়াসিসের মতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

অস্টিওপেনিয়া অস্টিওপোরোসিস :

ক্যালসিয়াম আমাদের মজবুত করে এবং ভঙ্গুরতা দুর করে। শরীরে যখন ক্যালসিয়াম কম থাকে তখন শরীরে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ক্যালসিয়মা কমতে থাকে এবং সারা দেহে এর প্রভাব পড়ে। এমনটা হতে থাকেলে একসময় ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে অস্টিওপেনিয়া ও অষ্টিওপোরোসিস হতে পারে।

দাঁতের সমস্যা :

শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে গেলে দাঁতের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এর কারণে দাঁতের ক্ষয় ও দাঁতের শিকড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

বিষণ্নতা:

ক্যালসিয়ামের অভাব হলে গবেষণা দেখা গেছে হতাশা বেড়ে যায় , মেজাজ খারাপ হওয়ার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

ক্যালসিয়াম ঘাটতি পুরণের উপায়

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পুরণের উপায়
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পুরণের উপায়


ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পুরনের উপায় হলো : বিভিন্ন ধরনের ক্যালসিয়া সমৃদ্ধ ফল খাওয়া । যেমন: কমোলা লেবু , পাতি লেবু মতো যে কোনও লেবুতে ভিটামিন সি আর সাইট্রিক ও অ্যাসিড থাকে যা শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণের সাহায্যে করে। টক জাতীয় ফল হাড়ের সাস্থ্যের জন্য ভালো।

  • ব্রকোলি হাড়কে মজবুত করে রাখে।

নিয়িমিত ৫ টি খাবার খেয়ে আপনার ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন :

  • শরীর ব্যথা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত সফট ড্রিংক , কাচা নুন , কফি খাওয়ার অভাস যাদের বেশি তারা ক্যালসিয়ামজনিত সমস্যায় বেশি ভুগেন। এ খাবার গুলো আমাদের শরীরে হাড়কে ক্ষতি করছে দিন দিন যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রকাশ পায়। তাই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরনের জন্য এই খাবার গুলো পরিত্যাগ করতে হবে ।

  • অনেকেই আছেন ক্যালসিয়ামের অভাবের কারনে বেশি বেশি ঔষুধ খেয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।

  • ওষুধ ছাড়া প্রকৃতিক উপায় কী খাবেন ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করার জন্য ?

  • কাঠ বাদামের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে। শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি জন্য কাঠ বাদাম খাওয়া উচিত।

  • গরম কালের একটি সবজি ঢ্যাড়স। যা আমাদের একটি উপকারি খাবার। শরীরে ঘাটতি জন্য প্রতিদিন ঢেরস খাওয়া উচিত। ঢ্যাড়সে প্রায় ১৭০ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।

ক্যালসিয়াম এর কাজ কি?

  • ক্যালসিয়াম আমাদের শরীরে ৯৯% ই শক্তি টিস্যু হিসাবে জমা হয় এবং এটি হাড় ও দাতের আকার ধারন করতে সাহায্য করে ।

  • এটি শরীরের কার্যক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্নভূমিকা পালন করে যেমন ; স্নায়ুর মাধ্যমে বর্তা প্রেরণ করার কাজ করে থাকে এছাড়াও হরমোন ক্ষরণ, রক্ত বাহিতা, পেশীর সংকোচ , সম্প্রসারণ।

  • ক্যালসিয়াম কস্কলতা কাযকারিতায় সাহায্য করে। ক্যালসিয়ামের অভাব কে হাইপোক্যালসেমিয়া নামেও চিহ্নিত করা হয়।

  • দীর্ঘ স্থায়ী চিকিৎসা না করালে হাইপোক্যালসেমিয়ার কারনে হাড় পাতলা হয়ে যায়। ক্যালসিয়াম অভাব দেখা দিলে আপনি যদি খাদ্যা ভাসে পরিবর্তন আনতে পারেন তাহলে, ক্যালসিয়াম খুব সহজই সারানো যায়।

এক জন বয়স্ক মানুষের ক্যালিসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করার জন্য দৈনিক ১০০০ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়া প্রয়োজন।

প্রতিদিন একজন নারী এবং পুরুষের ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালিসিয়াম খাওয়া দরকার।

গর্ভবতী মায়েরা বুকের দুধ তাদের সন্তানদের পান করায় যার ফলে তাদের ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনিয়তা বেশি। দুধ আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম বাড়ায়। এছাড়া ও সবুজ শাকসবজি কমল, বাদাম, , টফু, ইত্যাদি এগুলোতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে।

Leave a Comment