গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায়। গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ

গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায় হলো আমাদের লেবুপানি বা লেবু চা পান করতে হবে। এতে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এর সাথে কিছু পরিমাণ লবণ ও জিরার গুঁড়া মিশিয়ে নিতে পারেন।

পুদিনা পাতা গ্যাসের জন্য অনেক কার্যকারী এবং এটি আপনার বমির ভাবও দূর করতে পারে। শরীরকে সুস্থ রাখে।

গ্যাস্ট্রিকের কারণে সাধারণ নাভীর উপর পেটে ব্যথা হয়। ভোররাতের কিংবা খালি পেটে তীব্র ব্যথা হয়ে থাকে। এর কারনে গলা-বুক জ্বালে এবং টক ঢেঁকুর হয়ে থাকেঝাল মসলাজাতীয় এবং ভাজাপোড়া খাবারে বেশি সমস্যা হয়ে থাকে। তাই আমাদের এই খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে এবং কম খেতে হবে।


গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায় এর জন্য আমরা কিছু ফল খেতে পারি। যে ফল গুলো খেলে আমরা গ্যাস্ট্রিক থেকে বাচতে পারি তা নিচে দেওয়া হলো-

চলেন সবার আগে যেনে নেই গ্যাস্ট্রিক কি?

আমরা যখন বাজারা পোড়া খাই বা অতিরিক্ত তেল খাই তখন আমাদের পেটে গ্যাস এর সমস্যা হয়। এটি বোঝার উপায় হলো আপনার পিঠে ব্যথা করবে , বুকে ব্যথা করবে এছাড়াও আরো অনেক লক্ষণ দেখা যায় । তাই আপানেক ডক্টরের পরামর্শ নেওয়া উচিত কোনো ঔষধ সেবন করার আগে । প্রকৃতিক উপায়েও গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাওয়া যায় যা আমরা আমাদের আর্টিকেলে উল্লেখ করেছি ।

আপেল সিডার ভিনেগার

গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায় এর জন্য আমারা অনেকই আপেল ভিনেগার খেয়ে থাকি। আপেল সিডার ভিনেগার এর কার্য়কারি অনেক বেশি যা গ্যাস্ট্রিক দূর করার জন্য আপনি খাবারে আগে আপনি চায়ের সাথে এক চামচ আপেল সিডার ভিনেগার পান করতে পারেন। এতে করে আপনার অনেক উপকার আসবে । এটি দিনে ২/৩ বার পান করলে অনেক ভালো ফলাফল পাবেন।

দই

১. আপনি প্রতিদিন ২/৩ চামচ দই খেয়ে নিন।
২. দ্রুত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রোধ করার জন্য আপনি চাইলে কলা,দই ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
৩. দই আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দই পাকস্থলীকে এইচ পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া থেকে আমাদের রক্ষা করে গ্যাস্ট্রিক হওয়ার অন্যতম কারণ।

আদা

১. আদাতে এমন কিছু উপাদান আছে আমাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলে তা জ্বালাপোড়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

২. আদার রসের সাথে আপনি মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে অনেক উপকার হবে এবং দুপুরে আর রাতে আপনি এটা খেতে পারেন।

৩. আপনি চাইলে আস্ত একটি আদা ধুয়ে তা কেটে চিবিয়ে খেতে পারেন।

৪. আপনি আদাকে কুচি কুচি করে কেটে পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। তারপর ১০ মিনিট ডেকে রাখুন। এর পড় এটিকে আপনি সামান্য মধু মিশিয়ে চায়ের মতো করে খেতে পারেন। এটি আপনি দিনে ২/৩ বার খেতে পারেন কোন সমস্যা নেই।

আলুর রস

১. গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায় এর জন্য অন্যতম ভালো উপায় হলো আলুর রস। আলুর রসে আছে অ্যালকালাইন উপাদান যা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রোধ করে থাকে।

২. একটি বা দুইটি আলু নিয়ে গ্রেট করে নিতে পারেন। তারপর গরম পানির সাথে মিশিয়ে নিন। এই পানি আপনি প্রতিদিন ২/৩ বার পান করতে পারেন। প্রতিদিন খাবারে ৩০ মিনিট আগে আলুর রস খেয়ে নিন। তবে দুই সাপ্তাহ পান করুন এই পানি। এতে আপনি খুব ভালো ফলাফল পাবেন।

গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ

গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ
গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কম বেস আমাদের সবার আছে। গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ হলো বুক জ্বালা করে ও পেটের মাঝখানে চিনচিন ব্যথা হয়, খিদে কম লাগে, পেটে গ্যাস হয়, হজমের সমস্যা হয় এবং বমি বমি ভাব হয়। গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ হলে কম বেশি সবাই ডাডক্টরের পরামর্শে চিকিৎসা নিয়ে থাকি।

আপনি জানেন ঘরোয়া কিছু উপায়ে এই গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তা নিচে আলোচনা করা হলো :

  • আমরা একটা কাজ করে থাকি তা হলো খাওয়া দাওয়া ঠিক সময়ে করে থাকি না। এটা হলো আমাদের প্রধান সমস্যা। আমরা যা করি সকালের খাবার দুপুরে, আর দুপুরের খাবার বিকালে-রাতে, আর রাতের খাবার দেরিতে বা গভীর রাতরে খেয়ে থাকি। সঠিক নিয়ম না মেনে খাওয়ার কারনে আমাদের গ্যাসের সমস্যা হয়ে থাক। তাই অবশ্যই আমাদের নিয়মিত খাবার খেতে হবে।

  • গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায় একবারে পেট ভরে খাবেন না এতে সমস্যা বেড়ে যায়। ইসলাম ধর্মে আছে পাকস্থলি ভরে না খাওয়া, পাকস্থলী তিন ভাগের এক ভাগ খাবার দিয়ে ভরে রাখতে হবে, আর বাকি দুই ভাগ পানি এবং খালি রাখতে হবে। এই নিয়ম গুলো যদি আমরা মেনে চলি তাহলে আমাদের আর গ্যাস এর কোন সমস্যা হবে না।

  • একবারে পেট ভরে খাওয়া যাবে না অল্প অল্প করে বার বার খেতে হবে। এতে গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

  • আমাদের অতিরিক্ত তেল বা ভাজাপোড়া খাবার, চর্বীজাতীয় খাবার এগুলো কম খেতে হবে। এছাড়ও কারো কারো শাকজাতীয় খাবার খেলে, আবার কারো দুধ খেলেও দেখা দেই গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ। কোন খাবার খেলে আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হচ্ছে সেগুলো খাবার এর তালিকা থেকে বাদ দিন।

  • সব সময় চেষ্টা করবেন খাবার চিবিয়ে খাওয়ার জন্য। এতে খাবার ভালোভাবে হজম হয়। সঠিক পুষ্টি পাবেন আর গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ থাকে না। খাবার খাওয়া শেষ করে ১৫/২০ মিনিট হাঁটা চলাফেরা করুন। তাহলে গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষণ থেকে মুক্তি পাবেন।

গ্যাস্ট্রিক কেন হয়

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার হলো গ্যাস্ট্রিকের অন্যতম কারন। ভাজাপোড়া খাবারে অতিরিক্ত তেল থাকে আর বিশেষ করে বাহিরে খাবার খাবেন না। আর অনেকে সকালের খাবার দুপুরে আর দূপুরের খাবার রাতে খান এটি গ্যাস্ট্রিক এর লক্ষন হতে পারে।


সবার আগে আমাদের একটি জিনিস লক্ষ রাখতে হবে সেটি হলো খাবার। আমাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাটা হয় খাবারে দিক থেকে। আমরা সময় মতো খাওয়া দাওয়া করি না। বাহিরের খাবার বেশি খেয়ে থাকি। তাই আমাদের গ্যাস্ট্রিকর সমস্যা হয়।

গ্যাস্ট্রিক হলে কি কি সমস্যা হয়


গ্যাস্ট্রিক হলে কি রোগ হতে পারে চলে আমরা যেনে নেই।

গ্যাস্ট্রিক এর কারনে আমাদের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।


আমাদের অনেকের ক্ষেত্রে এই রোগ বাসা বাঁধলে আমাদের শরীরে কোন লক্ষণ দেখা দেয় না। তবে বেশির ভাগ সময়ে আমাদের শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন:

  • অল্প খেলে পেট ফুলে যায়

  • দীর্ঘ সয়ম খেয়ে থাকলেও ক্ষুদা না লাগা তাই নিয়মিত খেতে হবে যা গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায় ।

  • ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য

  • রক্তাক্ত বা কালো মল

  • অকারনে ওজন হ্রাস

  • পেট ব্যথা সাথে অম্বল

  • শরীরে ক্লান্তি ভাব

  • বদ হজম

  • বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিন। রোগের জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করান। এর কারনে আপনার শুরুতে এন্ডোস্কোপি করা লাগতে পারে। আপনার গ্যাস্ট্রিক এর কারনে আপনার পেটের ভিতরে দেখার জন্য গালা দিয়ে টিউবের মাধ্যমে একটি ক্যামেরা ডুকাবে।

এতে কোন কিছু স্পষ্ট যদি না দেখা যায় তাহলে পেটের ভেতরকার জন্য কিছু টিস্যু বায়োপসির জন্য ল্যাবে নেওয়া হবে। সেখানে নিয়ে আপনাকে মাইক্রোস্কোপের নীচে ক্যান্সার কোষ আছে কিনা তা পরীক্ষা করার পর জানা যাবে এই রোগের অবস্থা। এ ছাড়ও আপনার আরো কিছু পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।

যেমন-সিটি স্ক্যান, কয়েকটি এক্স-রে পেটে বিভিন্ন কোণ থেকে এবং এমআরআই ইত্যাদি। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর সার্জারি করতে হতে পারে। অনেক সময় কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপি মাধ্যমে ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। যদিও এই দুই ধরেন থেরাপি একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।

ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোর কারণে আশেপাশের ভালো কোষগুলো আক্রান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া লাগতে পারে। গ্যাস্ট্রিক দূর করার উপায় এর জন্য ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার হ্মেত্রে আপনার শরীরকে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে সাহায্য করবে। আর সেই সঙ্গে ক্যান্সারের নতুন কোষগুলো কে মেরে ফেলে সহায়তা করে। চিকিৎসা নিলে ধীরে ধীরে আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

Leave a Comment