ঘুম না হলে কি রোগ হয়?

ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে সকল প্রাণীর দৈনন্দিন কর্মকান্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া যা ক্লান্তি দূর করার জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ।

আসুন জেনে নিই অনিয়মিত ঘুম যেসব রোগের ঝুঁকি বাড়ায়-

1.পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা কম ঘুম হলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়বে। চিকিৎসকদের মতে, ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীরের ‘লিভিং অরগানিজমগুলো কাজ করতে পারে না। নষ্ট হতে পারে আমাদের শরীরের হরমোনের ভারসাম্য। বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ ও হাইপার টেনশন

২. ঘুম কম হলে আমদের হার্টের সমস্যা হতে পারে। কারন, ঘুমের সময় সকল প্রণীর হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি বিশ্রাম পায়। এর জন্য ঘুম কম হলে প্রতিনিয়ত মানুষের কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা বাড়তে থাকে। ফলে হার্টের সমস্যা বুদ্ধি পায়।

৩. ঘুম পর্যাপ্ত না হলে ডায়াবেটিসের আশংকা বাড়ে। দীর্ঘদিন রাতে না ঘুমানো এবং কম ঘুমানোর জন্য শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন ব্যাহত হয়। এর জন্য ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রতিনিয়তো বাড়ে।

৪. ঘুম শরীলের জন্য ক্ষতি পূরণ ও শক্তি সঞ্চয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাবস্থা। এর জন্য ঘুম কম হলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয় প্রতিনিয়ত। আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য দায়ী ‘লিভিং অরগানিজমগুলো’ (Living organisms)। কিন্তু আমরা না ঘুমালে এই ‘লিভিং অরগানিজম’গুলো দিন দিন অকেজো হয়ে পরে । ফলে ক্রমশ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।

৫. আমাদের মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নামের নিউরোট্রান্সমিটার আছে, যা মস্তিষ্ককে সচল করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কে ওরেক্সিন উৎপাদনের গতি মন্থর হয়ে যায়।

৬. প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বৃদ্ধি পেতে পারে হজমের সমস্যা। ঘুম কম হলে শরীরের পাচন ক্রিয়ায় সাহায্যকারী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সঠিকভাবে কাজ করে না। ফলে খাবার হজমে সহায়ক পাচক রসগুলো প্রতিনিয়ত উপযুক্ত মাত্রায় নিঃসরণে বাধা পায়।

7.দেরীতে ঘুমানো অথবা কম ঘুমানোর কারণে প্যানিক (আতঙ্কিত হওয়া), ফোবিয়া (ভীতি) ও ফ্যানটম পেইন (অকারণ অস্বস্তি)তৈরি হয় যা মানুষের বিষণ্ণতা এবং উদ্বিগ্নতা বুদ্ধি করে ।

8.বর্তমান বিশ্বের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ পর্যাপ্ত ঘুমায় না।


9.প্রতিদিন ৬ ঘন্টার নিচে ঘুমালে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হবে এবং ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

ঘুমের উপকারিতা ?

বেশি ঘুম পায় কেন?
বেশি ঘুম পায় কেন?
  • Immune system যেমন দুর্বল হবে তেমনি Inflammation(প্রদাহ) বাড়তে থাকবে। শরীরে বাতের ব্যাথা এগুলো বাড়তে থাকবে এবং অনেক ধরনের Inflammatory রোগে আপনি আক্রান্ত হতে পারেন যেমন: Asthma, Arthritis ইত্যাদি ।

  • পর্যাপ্ত ঘুম ব্যাতীত আমাদের শরীর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার (Detoxification) কাজ করতে পারে না। সুতরাং শরীরে Toxin জমতে থাকে বিশেষ করে এবং Brain detoxify হতে পারে না।
    স্বাভাবিক অবস্থার চাইতে ঘুমের ভেতরে দশ ভাগ এর চেয়েও বেশী Detoxification হয় । অর্থৎ Brain এ জমে থাকা Metabolic end product পরিস্কার হয়।

  • আপনার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি শক্তি হ্রার্স পাবে এবং Brain এর কার্যকারীতা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে এবং Alzheimer’s রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বাড়বে।

  • এক সপ্তাহের ঘুমের ব্যাঘাতে হলে , আপনি Pre-Diabetic patient.

  • আপনার Testosterone level significantly কমে যাওয়ার ঝুকি রয়েছে। নারী ও পুরুষ উভয়ের যৌন ক্ষমতা এবং আকাঙ্ক্ষা কমে যাবে।

  • পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারনে আপনার রক্তনালী Block হয়ে যেতে পারে । এবং বিভিন্ন Cardiovascular সমস্যা দেখা দিবে যেমন: Brain Stroke, Congestive Heart Failure ইত্যাদি।

  • মানসিক সমস্যার একটা মুল কারন হল কম ঘুম যেমন: Anxiety, Depression।

  • ওজন বাড়ার অথবা (মিস্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষন)/Sugar addiction এর অন্যতম কারণ হল sleep deprivation.

  • আপনার মেজাজ সবসময় তিরিক্ষি থাকবে এবং অকারণে মন খারাপ হবে । সব কিছু অসহ্য লাগতে থাকবে এবং নেগেটিভ চিন্তা আসবে, মাথা সর্বদা থাকবে গরম, শরীরের জ্বালা পোড়া।

  • আর আপনাকে দেখতে একটু বয়স্ক লাগবে, চেহারায় বয়সের ছাপ বাড়তে থাকবে , সতেজতা থাকবে নাহ , চোখের নীচে কালো দাগ হয়ে দেখা যাবে , skin নষ্ট হবে, চেহারার উজ্জ্বলতা চলে যাবে।

বেশি ঘুম পায় কেন?

১)স্লিপ অ্যাপনিয়া- ঠিকঠাক ঘুমানোর পরও আপনি ক্লান্ত। এই অসুখের কারনে প্রবল নাক ডাকার সঙ্গে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় ফলে মাঝেমধ্যেই ঘুম নষ্ট হয়। ভাঙা ভাঙা ঘুম থাকে সবসময়। ফলে কম ঘুমের জন্য সারদিন আপনার ক্লান্তিতে ভরিয়ে তোলে।

২) ওবেসিটি- ঘুমের পরও ক্লান্তি থাকে? মোটা হয়ে যাচ্ছেন ? ওবেসিটি থাকলে বা শরীরের মেদ জমলে সারাদিন ঘুম পায় এবং ক্লান্তি চলে আসে বারবার

৩) টেনশন- টেনশন বা ডিপ্রেশন হতে পারে অনিদ্রার অন্যতম কারণ। আর যদি টেনশন বা ডিপ্রেশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনি ওষুধ নেন, তা হলে সারাদিন ঘুম পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

৪) মদ্যপান- চেতনাকে বশ করে অ্যালকোহল বা মাদক দ্রব্য । ফলে প্রচণ্ড ঘুম পায় সারাদিন। রাতে পুরোপুরি সেই ঘুম হয়ে ওঠে না। তাই সকালে গা ম্যাজম্যাজ, মাথা ঝিমঝিম করে।

ঘুম আসে না কেন?

আপনি যদি পর্যাপ্ত ঘুম না পান তবে আপনার শরীর এবং মন তাদের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পাচ্ছে না। এটি বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • স্ট্রেস লেভেল বেড়ে যাওয়া
  • উত্পাদনশীলতা হ্রাস পাওয়া
  • আঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারনে
  • বিষণ্নতার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কারনে
  • স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যায় এর জন্যও হতে পারে
  • ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অতি মাত্রায় বৃদ্ধি
  • হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যওয়ার জন্য
  • ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকলে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গে
  • স্পষ্টভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা হ্রাস পেলে

ঘুম বৃদ্ধির উপায় কি ?

প্রতিদিনের কাজ ঠিকমতো করার জন্য প্রয়োজন রাতে ঠিকমতো ঘুমানো। কারণ, ঘুম কাজের জন্য আপনার শরীরকে প্রস্তুত করে এবং আগ্রহ জোগায়।


আমাদের মাধ্যে এই বিষয়গুলো বৃদ্ধি পাচ্ছে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব এবং গ্যাজেটনির্ভশীল হয়ে যাওয়া যা জীবনের অনেকের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। অনেক সময় দেখতে পাই, শরীর প্রচণ্ড ক্লান্ত কিন্তু আমাদের ঘুম আসে না । রাতে ঘুম ঠিকমতো না হলে অমাদের বিভিন্ন শারীরিক রোগ দেখা দিতে পারে। তাই আমাদের রাতে প্রয়োজনমতো ঘুমাতে হবে।


আধুনিক গবেষণা থেকে জানা যায় , কিছু খাবার রয়েছে, যা খেলে আপনার রাতের ঘুমকে পরিপূর্ন করতে সাহয্য করবে। কারন ভালো খাবার শরীরে মেলাটোনিন ও কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ হয় যার ফলে রাতে ভালো ঘুম হয়।


নিচে আলোচনা করা হলো বিশেষজ্ঞদের মতে ভালো ঘুমের জন্য যেসব খাবার খেতে হবে –


১. প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে গরম দুধ খেলে ঘুমের জন্য অনেক উপকারী। দুধে বিদ্যমান অ্যামাইনো অ্যাসিড ট্রিপটোফ্যান আমাদের ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক করে।


২. ভিটামিন ডি ডিমে আছে। আমাদের মস্তিষ্কের একটি অংশের নিউরন ঘুমাতে সাহায্য করে আর ডিমের ভিটামিন ডি সেখানেই কাজ করে। ভিটামিন ডি এর ঘাটতি থাকলে সহজে ঘুম আসে না।


৩. মিষ্টি আলুতে বিদ্যমান পটাশিয়াম ঘুমাতে সাহায্য করে।


৪. কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে তাই, কলা খেলে রাতে ঘুম ভালো হয়।


৫. মধু সেরেটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরি করতে সাহায্য করে। মধু নিয়মিত খেলে ভালো ঘুম হয়।


৬. লেটুস পাতায় রয়েছে ল্যাকটুক্যারিয়াম যা ভালো ঘুমে সহায়তা করে। এই পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে অথবা সালাদ করেও খেতে পারেন।


৭. আখরোটেও রয়েছে ট্রিপটোফ্যান । সেরেটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে প্রতিদিনি দুটি আখরোট খেতে পারেন।


৮. কাঠবাদামে রয়েচে ম্যাগনেশিয়াম, ট্রিপটোফ্যান স্নায়ু , মাংসপেশিকে শান্ত করে। স্নায়ু এবং মাংসপেশি শান্ত হলে ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।


৯. সবজির স্যুপ, বাদাম, আপেল, কিশমিশ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার প্রতিদিন খেতে হবে।


১০. নিয়মিত শরীরচর্চা ভালো গুমাতে সাহায্য করে ।

read more: মোটা হওয়ার টিপস যা ডাক্তারদের ধারা প্রমাণিত

Leave a Comment