চুল লম্বা করার উপায়। প্রাকৃতিক উপায়ে চুল লম্বা করার উপায়। চুল গজানোর উপায়

চুল লম্বা করার উপায় হলো: ক্যাস্টর তেল যা রাইসিনোলিক অ্যাসিড এবং ওমেগা সিক্স ফ্যাট অ্যাসিড সমৃদ্ধ তাই এটি আপনার মাথার ত্বকে মালিশ করা হলে আপনার রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় ও চুল লম্বা করতে সহায়তা করে। ভালো ফলাফলের জন্য আপনি এক চামচ ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে এক চা চামচ জলপাই ও কাট-বাদামের তেল মিশিয়ে নিন। তারপর আপনার মাথার ত্বকে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে নিন এবং ধুয়ে ফেলুন। আপনি সাপ্তাহে ১-২ ব্যবহার করতে পারেন।

এছাড়াও চুল লম্বা করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে নিম্নে আলোচনা করা হলো:

লম্বা চুলের জন্য পেঁয়াজের রস :

  • লম্বা চুলের জন্য পেঁয়াজ সালফেট খুবিই উপকারি যা আমাদের চুল লম্বা করতে সাহায্য করে।

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার :

মুখের ত্বকের সাথে আমাদের মাথার ত্বকে নিয়মিতি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এতে করে মৃত কোষ দূর হয়ে যায় ও পিএইচয়ের ভারসাম্য বজায় রাখে।

চুল লম্বা করার উপায় হলো অ্যাপল সাইডার ভিনেগার কারন এটি আমাদের চুল বৃদ্ধির জন্য সহায়তা করে থাকে। চাইলে আপনি এটি পান করতে পারেন। এটা আপনার ত্বক ও চুলের জন্য উপকারি। এছাড়াও এই মিশ্রন পানি আপনার চুলে দিতে পারেন। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার আপনার চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। তাই এটি সাপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করতে পারেন।

মাথা মালিশ করা :

চুল গজানোর উপায় হলো মাথা ত্বক মালিশ করা। আপনি চাইলে তেল দিয়ে বা তেল ছাড়াও মালিশ করতে পারেন। মাথার মাঝখান থেকে শুরু করে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত মালিশ করতে পারেন।

খাবারে প্রতি মনোযোগ দিন :

আমরা কি খাবার খাচ্ছি সে দিকে মনোযোগ দিতে হবে। দৈনিক খাবারে ৫০ গ্রাম প্রোটিন রাখতে হবে। ওজন কমাতে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা বা দৈনিক খাবারের তালিকায় যদি প্রোটিন এর স্বল্পতা থাকে তাহলে চুল পড়া, পাতলা ও চিকন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই আমাদের প্রোটিন এর চাহিদা মেটাতে আমাদের খাবারের তালিকায় মাংস, ডিম, ডাল জাতীয় খাবার রাখতে হবে।

চুল লম্বা করার তেলের নাম

চুল লম্বা করার তেলের নাম
চুল লম্বা করার তেলের নাম

চুল লম্বা করার তেলের নাম হলো অলিভ অয়েল। আপনি যদি নিয়মিত চুলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন তাহলে আপনার চুল দ্রুত লম্বা ও ঘন হয়ে উঠবে। চুলের বৃদ্ধিতে ক্যাস্টর অয়েল অনেক ভালো কাজ করে। চুল লম্বা করার উপায় হিসাবে প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ এই ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করে আসছে। চুল বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভাবে মাথার ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখে এবং খুসকি দূর করে এই ক্যাস্টর অয়েল।

চলুন জেনে নেই চুল লম্বা করার তেলের নামগুলা কি কি

  • নারিকেল তেল : নারিকেল তেল আমাদের চুলের জন্য ভালো একটি উপাদান। এটি চুলের গোড়া শক্ত করার পাশাপাশি মাথার ত্বকে পুষ্টি জুগিয়ে থাকে। এটি আমাদের চুল ভাঙ্গাও কমায় এবং চুল কে ঝলমলে করে তুলে।

  • জলপাই : ত্বক ও চুলের যত্নে জলপাইয়ের তেল অন্যতম। জলপাইয়ের তেলে রয়েছে একাধিক ভিটামিন আছে যা চুলের প্রাকৃতিক কেরাটিন ধরে রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে আপনার চুল দ্রুত লম্বা ও শক্তিশালী হয়।

  • কারি পাতা : কারি পাতাতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন। এটি আমাদের চুলের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং চুলের বৃদ্ধি বাড়ায়। এতে অ্যামিনো অ্যাসিড বেশি থাকায় আমাদের চুলের ফলিক গুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে।

  • প্যারাশুট : চুল লম্বা করার তেলের নাম হলো প্যারাশুট । কারন প্যারাশুট আপনার চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় এবং চুলকে দ্রুত লম্বা করতে সাহায্য করে। এই গরম কালে ব্যবহার না করাই ভালো। এটি শীতকালে ব্যবহার করা ভালো। এই তেলে কিছু আয়ুর্বেদিক উপকারণ আছে যা আপনার মাথা গরম রাখতে সাহায্য করে।

  • গ্রোআউট হেয়ার : চুল লম্বা করার উপায় জানতে চাইলে আপনি গ্রোটআউট হেয়ার এইটির বিস্তারিত বিবরণ পড়ে দেখতে পারেন । এই তেলটি আপনার চুলকে দ্রুত লম্বা করতে সাহায্য করবে। চুল পড়া রোধ করতে গ্রোআউট হেয়ার সাহায্য করে এছাড়াও নতুন নতুন চুল গজাতেও সহযোগিতা করে থাকে।

চুল গজানোর উপায়

চুল গজানোর উপায় জানার আগে আপনাকে প্রথমে জানতে হবে কেরাটিন কি ?

চুল গজানোর জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমানে প্রোটিন খেতে হবে। মূলত কেরাটিন দিয়ে আমাদের চুল ঘটিত। এটি অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরী এক ধরনের প্রোটিন। নতুন চুল গজানোর জন্য আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করতে হবে। আপনার খাবারের তালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, পনির, দুধ, এগুলো থেকে যেকোন একটি প্রতিদিন রাখার চেষ্টা করুন।

নতুন চুল গজানোর বিভিন্ন ধরনের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো :

আপনাকে নিয়মিত চুলকে ম্যাসাজ করতে হবে। এতে করে স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চলন বাড়বে এবং স্ক্যাল্পের উদ্দীপিত হবে।

ভিটামিন ই

  • এক চা চামচ ভিটামিন-ই নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করতে থাকুন। ভিটামিন-ই আমাদের চুলের জন্য প্রয়োজনীয় নিউট্রিশন এর জোগান দেন।

  • ভিটামিন-ই এর সাথে আপনি চা এর নির্যাস যোগ করতে পারেন। এই দুইটা এক সাথে মিশিয়ে হাতের তালু ও আঙ্গুলের সাহায্যে পুড়ো মাথার গোড়ায় গোড়ায় লাগিয়ে নিন।

  • ৬-৭ মিনিট ম্যাসাজ করুন। তার মোটা দাঁতের চিরুনি দু্িয়ে আচঁড়ে নিন।

  • তার পর ভালো শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ভালো শ্যাম্পু ব্যাবহার

  • আপনাকে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে যে শ্যাম্পু আপনার স্ক্যাল্পের মৃত কোষ গুলো ঝরে যেতে সাহায্য করে।

  • এই মৃত কোষ গুলো স্ক্যাল্পের ফলিকল ব্লক করে রাখে যার কারনে আমাদের নতুন চুল গজাতে সমস্যা হয়।

  • কারণ তখন স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়।

  • অল্প পরিমানের শ্যাম্পু দিয়ে আপনার চুল ম্যাসাজ করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।

2 দিনে চুল লম্বা করার উপায়

আপনি সাপ্তাহে দুইদিন ক্যাস্টর অয়েল ও নারিকেল তেল মিশিয়ে গরম করে আপনার মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। তেল যাতে বালিশে না লাগে।আপনি মাথায় নরম তোয়াল বা কাপড় জরিয়ে শুয়ে পড়ুন। সকালে শ্যাম্পু করে নিন । এতে আপনার চুল সহজে ভাঙবে না ও চুলের গোড়া শক্ত হবে ।

প্রাকৃতিক উপায়ে চুল লম্বা করার উপায়

প্রাকৃতিক উপায়ে চুল লম্বা করার উপায় এর উপাদান গুলো হলো : পেয়াজ , তেল , ডিমের সাদা অংশ , চায়ের পাতা ।

পেয়াজ : চুল লম্বা করার জন্য আমরা পেয়াজ ব্যাবহার করতে পারি । পেয়াজের রস চুল বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে তাই নিয়মিত যদি চুলের গোড়ায় পেয়াজের রস ব্যাবহার করি তাহলে চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং চুলের গোড়া মজবুদ ও শক্ত হবে ।

ক্যাস্টর অয়েল: চুল লম্বা করার জন্য ক্যাস্টর অয়েল ব্যাবহার করার যায় । ক্যাস্টর অয়েলে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যা আমাদের চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পৃষ্টি যোগায় যেমন: মিনারেল , ভিটামিন ই , প্রোটিন ইত্যাদি । আপনার চুল ঘন করার জন্য বা লম্বা করার জন্য এই চুল ব্যাবহার করতে পারেন ।

ডিমের সাদা অংশ: ডিমের সাদা অংশ দিয়ে আপনি আপনার ত্বকের সৈান্দর্য বৃদ্ধি করতে পারেন আবার আপনার চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ডিম ব্যাবহার করার পাারেন। একটি ডিমের সাদা অংশ নিয়ে তার সাথে অলিভ অয়েল তেল ভালো করে মিশিয়ে আপনার মাথায় ভালো করে মালিশ করুন । অবশ্যই গোসল করার ৩০-৪০ মিনিট আগে এই মিশ্রনটি আপনার মাথায় দিয়ে রাখবেন তার পর গোসল করে নিবেন । আর দুর্গন্ধ দূর করার জন্য শেম্পু ব্যাবহার করতে হবে কারন চুল সাধারন পানি দিয়ে ধুলেও ডিমের গন্ধ থেকে যায়।

অল্প সময়ে দ্রুত চুল লম্বা করার উপায়

কালোজিরা ও মেথি : প্রথমে আপনাকে এই দুইটি উপাদান রোদে ভালো করে শুকাতে হবে। এরপর এই উপাদান গুলো গুঁড়া করে নিন। তারপর নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে নিন। আপনি এই মিশ্রনটি ফুটিয়ে তারপর ঠাণ্ডা করে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। এই মিশ্রনটি দুই সাপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকবে। এটি আপনি সাপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করতে পারেন ।

আমাদের চুলের গোঁড়ায় হেয়ার ফলিকল থাকে । ভাইব্রেশনের মাধ্যামে আপনার নতুন চুল গজানো সম্ভব যদি ফলিকল উদ্দীপিত করা যায় । ভাইব্রেটিং ম্যাসেজার বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। আপনি স্ক্যাল্পে চক্রকারে ঘুরিয়ে আপনার মাথায় ভাইব্রেটিং ম্যাসাজ নিতে পারনে। আপনার যে জায়গায় বেশি চুল পড়ে যাচ্ছে সে জায়গায় আপনি ভালো করে মনোযোগ দিন। আপনি ৫-১০ মিনিট স্ক্যাল্পে ভাইব্রেট করতে পারেন। আপনি যদি ভালো ফলাফল পেতে চান তাহলে এটি আপনাকে দিনে ৩ বার করতে হবে।

Leave a Comment