ডাবের পানির উপকারিতা ও অপকারিতা। ডাবের পানি খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

ডাবের পানির উপকারিতা হলো: ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। যা আমাদের শরীরে অনেক উপকার করে। ডাবের পানি আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। ডাবের পানিতে রয়েছে ডাই ইউরেটিক উপাদান যা ইউরিনারি ট্র্যাক ও ইনফেকশনের জন্য ব্যাকটেরিয়াকে দুর্বল করে তুলে এছাড়াও শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
ডাবের পানিতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে । যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ডাবের পানিতে অ্যান্টি, এজিং প্রপাটিস থাকে।

কাজ করলে আমাদের শরীরে ঘাম বের হয় এবং এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পানি বের হয়ে যায়। তাই ডাবের পানি আমাদের শরীরের এই সকল চাহিদা পূরণ করে থাকে । বাজারে তরল পানি গুলোর মধ্যে ডাবের পানি সবচেয়ে উপকারি। গরম বেশি পড়লে আমাদের ডাবের পানি খাওয়া প্রয়োজন।

ডাবের পানি খাওয়ার ১০টি উপকারিতা

ডাবের পানি খাওয়া ১০টি উপকারিতা
ডাবের পানি খাওয়া ১০টি উপকারিতা
  • ত্বকের অন্যান্য সমস্যা নিরাময়ের জন্য ডাবের পানি খুব উপকারি। ডাবের পানিতে আছে আ্যান্টিফাঈাল ও আন্টিব্যাকটেরিয়াল।
  • ডাবের পানি ত্বকের যে অতিরিক্ত তেল রয়েছে তা দূর করতে সহায়তা করে।
  • ডাবের পানি খেলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ থাকে।
    ডাবের পানিতে আছে ভিটামিন সি। হাড়কে মজবুত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম ও ডাবের পানি খাওয়া প্রয়োজন।
  • আমাদের শরীরে যাদের অ্যাকনের সমস্যা আছে তারা ডাবের পানি তুলায় ভিজিয়ে ত্বকের উপর লাগাতে পারবেন।
  • ডাবের পানি খেলে মুখের আদ্রতা বাড়ে।
  • ডাবের শাঁসে যে ক্যালরি রয়েছে তা মানব শরীরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং চেহেরায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।
  • গরমে বমির ফলে , শরীরে পানি শূন্যতা হতে পারে তাই ডাবের পানি খাওয়া দরকার।
  • ডাবের পানির ভেতরে আছে কার্বোহাইড্রেডট যা আমাদের শরীরে শক্তি বাড়ায় । ডাবের পানি খেলে শরীরে রক্ত শূন্যতা পূরণ হয়।
  • ডাবের পানির মধে কোনো চর্বি নেই এটি প্রাকৃতিক খাবার।
  • ডাবের পানি খেলে আমাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকে।

ডাব খাওয়ার উপকারিতা

ডাব খাওয়ার উপকারিতা
ডাব খাওয়ার উপকারিতা

ডাব পেকে নারিকেল হবার সাথে সাথে ডাবের পানির জল কমে য়ায়। কচি ডাবের ভেতরে অল্প পরিমানে শাঁস থাকে । পানি হিসেবে ডাবের পানি অত্যন্ত জনপ্রিয়। ডাবের পানি তে ১৬. ৭ ক্যালারি তথা ৭০ কিলো জুল খাদ্য শক্তি রয়েছে প্রতি ১০০ গ্রামে ।

ডাবের পানির উপকারিতা ও অপকারিতা

ডাবের পানির উপকারিতা :

  • শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে ডাবের পানির গুরুত্ব অনেক।
  • ডাবের পানিত নিয়মিতি খেলে আ্যাসিডিটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ডাবের পানিতে রয়েছে ডাই ইউরেটিক উপাদান ।
  • প্রাকৃতিক স্যালাইন হলো ডাবের পানি।স্যালাইনের পরিবর্তে আপনি ডাবের পানি খেতে পাড়েন।
  • নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে গ্যাসট্রিক কমে যাবে কারণ ডাবের পানিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে।
  • গবেষণায় দেখা গেছে , ব্যায়ামের পর অন্যান্য পানির চেয়ে ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা বেশি কারণ ডাবের পানিতে থাকে ইলেক্টোলাইটস।

ডাবের পানির অপকারিতা :

  • ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালরি যা আমাদের ওজন বাড়াতে সাহায্য করে তাই যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য ডাবের পানি কম খাওয়া ভলো । ডাবের পানিতে চিনির পরিমান অল্প থাকলেও এটি আপনার ক্যালরির পরিমান বাড়িয়ে দিবে।
  • ডাবের পানিতে কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরির মাত্রা অধিক পরিমাণে থাকার কারনে রক্তের শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায় ।
  • ডাবের পানিতে সোডিয়াম থাকার কারনে অতিমাত্রায় ডাবের পানি খেলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পাড়ে । রক্ত চাপ যাদের আছে তাদের জন্য প্রতিদিন ডাবের পানি খাওয়া ক্ষতিকর ।
  • ডাবের পানিতে চিনি থাকে না । ফলের রসের চেয়ে ডাবের পানি অনেক উপকারি। যাদের রক্ত চাপের সমস্যা আছে তারা সপ্তাহে একা থেকে দুইবার ডাবের পানি খেতে পারবে।
  • ডাবের পানি বেশি খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। যাদের অ্যালার্জির রোগ আছে ডাবের পানি খেলে শরীরে ক্ষতি হবে।
  • যাদের ঠান্ডা ও সর্দি রোগ আছে তাদের ডাবের পানি খাওয়া উচিত নয়।

ডাব এর ইংরেজি

ডাবের ইংরেজি শব্দের অর্থ হলো Green cocoanut।

ডাবের ছবি

ডাবের ছবি
ডাবের ছবি

ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমানে খনিজ পদার্থ ও পটাশিয়াম থাকে । ডাবের পানিকে অনেক দেশে স্যালাইন হিসাবেও ব্যাবহার করা হয় ডিহাইড্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। ডাবের পানিতে পটাশিয়ামের পরিমান ০.২৫ % এবং সব থেকে বেশি পানির পরিমান যা ৯৫.৫% ।

কচি ডাবের পানির উপকারিতা

  • মানব দেহে ইলেক্ট্রলইট এর পরিমান কমে গেলে ডাবের পানি সেই চাহিদা পূরণ করে থাকে । আমাদের যখন ডায়রিয়া হয় তখন শরীল থেকে ইলেক্ট্রলাইট কমে যায় তাই সেই সময় ডাবের পানি এই ইলেক্ট্রলাইটের ঘাটতি খুব সহজেই মেটাতে পাড়ে

  • যাদের স্নায়ুসংক্রান্ত রোগ রয়েছে তাদের জন্য ডাবের পানি অনেক উপাকারি কারন ডাবের পানি তে যে কিনেটিন থাকে তা স্নায়ুসংক্রান্ত রোগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে ।

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও ডাবের পানি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে।

  • ডাবের খেলে কিডনির পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

  • ডায়রিয়া , আলসার রোগ নিরাময়েও ডাবের পানি খেতে পারেন।

  • শরীলের কাটা জায়গায় যদি ডাবের পানি ব্যাবহার করেন তাহলে দ্রুত এন্টিসেপটিক এর কাজ করবে ।

  • মুখের ব্রণ দূর করতেও ডাবের পানি ব্যাবহার করতে পারেন । যদি মুখে মেসতা থাকে তাহলে নিয়মিত ডাবের পানি ব্যাবহার করলে মেসতা দূর হয়ে যাবে ।

  • কোষ্ঠ্যকাঠিন্য রোগ নিরাময়ের জন্যও ডাবের পানি অনেক ভালো ফলাফল দিয়ে থাকে

ডাবের পানি খাওয়ার নিয়ম

ডাবের পানি খাওয়ার নিয়ম হলো : অতিরিক্ত পরিশ্রমে যখন শরীল ঘেমে যায় তখন তাৎক্ষনিক শক্তি পেতে ডাবের পানি খেতে পাড়েন ।

ডাবের পানিতে ক্যালরি ও মিনারেল থাকায় এটি একটি উৎকৃষ্ট পানীয় হিসাবে পরিচিত ।

ডাবের পানি যেকোনো সময় খেতে পাড়েন এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই । তবে আপনি সকাল বেলা ডাবের পানি খেতে পাড়েন বেশি উপকারিত হওয়ার জন্য কারন ডাবের পানিতে যে ল্যারিক এসিড রয়েছে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য খুবিই উপকারি ।

আপনি রাতে ঘুমানোর আগে যদি ডাবের পানি খেতে পাড়েন তাহলে আপনার ঘুম ভালো হবে মস্তিষ্ক পরিষ্কার থাকবে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীলে পূর্ণ শক্তি পাবেন ।

খালি পেটে ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা

খালি পেটে ডাবের পানি খাওয়ার উপকারিতা হলো আপনার দুর্বলতা এবং বুক জালা পড়া কমাতে সাহয্য করবে ।

আপনার প্রস্রাবের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করবে যদি খালি পেটে নিয়মিত ডাবের পানি খেতে পাড়েন ।

খালি পেটে ডাবের পানি খেলে আপনি ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে মুক্তি পাবেন ।

কোষ্ঠ্যকাঠিন্য রোগ থেকেও মুক্তির জন্য আপনি নিয়মিত সকাল বেলা খালিপেটে ডাবের পানি খেতে পাড়েন।

কাজ করতে যাওয়ার সময় বা কাজ শেষ করে আপনি যদি ডাবের পানি খেতে পাড়েন তাহলে আপনার শরীলের দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করবে ।

সকালে ডাবের পানি খেলে আপনার শরীলের ইনসুলিনের মাত্রা সাভাবিক থাকবে এবং সেই সাথে আপনার ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রনে থাকবে ।

ডাবের পানি খাওয়ার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আপনার গ্লুকজের মাত্রা সাভাবিক রাখতে সহায়তা করে থাকে ।

Leave a Comment