ডায়াবেটিস কমানোর উপায় 2022। ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় হলো প্রতিদিন প্রটিন ও চর্বিজাতীয় খাবার খেতে হবে ।

ডায়াবেটিস দুই প্রকার : টাইপ-১ ডায়াবেটিস এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস ।

 type-1 ডায়াবেটিস
type-1 ডায়াবেটিস

টইপ-১ ডায়াবেটিস হলো : দেহে ইনসুলিন উৎপাদন হ্রাস করে তুলে । ১০-৩০ বছর বয়সের ব্যাক্তিদের মধ্যে দেখা দেয় । এটি হওয়ার কারণ হলো দুটি জেনেটিক জিন। ১. HLADR3 এবং ২. HLADR4 ।

type-2 ডায়াবেটিস
type-2 ডায়াবেটিস


টাইপ-২ ডায়াবেটিস হলো : শারিরীক পরিশ্রম কম করলে এবং অতিরিক্ত স্থুলতার কারনে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগ হয় । ৪০ বছরের ঊর্ধের ব্যাক্তিদের এই রোগ দেখা দেয় ।

ডায়াবেটিস এর কারনে আমাদের চোখ , কিডনি , লিভার আরো অনেক গুরুত্ব পূর্ণ অঙ্গ হ্মতি গ্রস্থ হয় ।

তেতো খাবার ডায়াবেটিস কমাতে অনেক সহযোগিতা করে । যেমন: করলা , আমের পাতা , নিম , আমলকি , তুলসি পাতা , কালোজাম , খেজুর , সূর্যের আলো ।

ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিস কমানোর
ডায়াবেটিস কমানোর


কার্বোহাইড্রেট চিনি ডায়াবেটিস এর মাত্রা বৃদ্ধি করে তাই এই সব খাবার পরিহার করতে হবে ।

আমাদেরকে প্রতিদিন ৩-৪ লিটার পানি খেতে হবে । ডায়াবেটিস রোগিরদের জন্য নিয়মিত পানি খাওয়া খুবিই গুরুত্বপূর্ণ ।

ডায়াবেটিস কি?


ডায়াবেটিস কমানোর উপায় জানার আগে আপনাকে জানতে হবে ডায়াবেটিস কি ?


ডায়াবেটিস হলো বহুমূত্র রোগ । ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস মেলিটাস একটি হরমোনজনিত রোগ কারন আপনার দেহ যদি সঠিক পরিমানে ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে বা আপানার শরীলে ইনসুলিন উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হলে ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয় ।


এই সময় রক্তে চিনি বা শর্করা সঠিক মাত্রায় থাকে নাহ । এছারা্র এর ফলে রক্তে গ্লুকজের মাত্রা বেরে গেলে মৃতু পর্যন্ত হতে পারে ।

ডায়াবেটিস এর লহ্মণ গুলো হলো :

  • অতিরিক্ত হ্মুদা লাগতে পারে

  • আপনার ওজন ধীরে ধীরে কমতে থাকবে

  • রাতে ঘুম ধরবে নাহ

  • সর্বদা অসুস্থ অনুভব করবেন

  • চোখে দেখতে সমস্যা হবে

  • বেশি বেশি পানি খেতে মন চায়বে

  • আর সব থেকে বহুল প্রচলিত সমস্যা হলো আপনার ঘন ঘন প্রস্রাব ধরবে যা দেখে প্রাথমিক ভাবে বুঝা যায় এটি ডায়াবেটিস এর লহ্মণ ।

  • নিজেকে দুর্বল অনুভব করা

  • মুখ শুকিয়ে যতে থাকবে ।

এর থেকে পরিত্রাণের জন্য আপনাকে প্রথমেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে । তার পর আপনি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করবেন । এছারও কিছু প্রাকৃতিকি খাবর রয়েছে যা অনুসরণ করলে আপনার অনেক উপকার হবে ।

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় নিম্নে দেওয়া হলো:

  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার : ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার হার্ট , চোখ ভালো রাখে এবং ডায়াবেটিস স্বাভাবিক রাখে। ভিটামিন সি জাতীয খাবার হলো : মাল্টা , পেপে , জাম ।
  • টক দই : টক দই রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রন রাখে এবং ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য অনেক উপকারী। টক দই শরীলের যদি অতিরিক্ত ওজন থাকে তাহলে সেই বারতি ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে ।

  • করলা : করলা হাইপারগ্লাইসেমিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করে কারন করলো হলো : ইনসুলিন পলিপেটাইড পি সমৃ্দ্ধ । লাইকোপিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে যা করলায় পাওয়া যায় । এছারাও রয়েছে । করলা রক্তের চর্বি হ্রাস করে ।

  • দারুচিনি : শরীরের রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে । দারুচিনি হৃদরোগের জন্য খুবিই ভালো চিকিৎসা । আমাদরে শরীরে অনেক খারাপ কোলেষ্টেরল রয়েছে । দারুচিনি খারাপ এলডিএল কোলেষ্টেরলের মাত্রা কমায় ।
  • নিয়মিত হাটতে হবে : নিয়মিত হাটলে আমাদের সুগার কমতে সাহায্য করে । নিয়িমিত হাটলে আমাদের শরীলের যে নিষ্ক্রিয় কোষ রয়েছে তা সচল করতে সাহায্য করে । এর ফলে আমাদের শরীলে সঠিক পরিমানের অক্সিজেন এবং রক্ত প্রবাহ সরবরাহ হয় ।

  • প্রতিদিন ব্যায়য়াম: প্রতিদিনি ব্যায়াম আমাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে । আমাদের সংবহনতন্ত্রের জটিলতা দূর করেত সাহায্য করে । হৃদরোগ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

  • খেজুর : খেজুরে রয়েছে প্রচুর ফাইবার । এটি রোগ নিরাময়েও অনেক উপকারি । খেজুরে রয়েছে পটাশিয়াম এবং সোডিয়াম যা আমাদের দেহে উচ্চ রক্তচাপ কামতে সাহায্য করে এর ফরে এটি দেহের খারাপ কোলেষ্টেরলের মাত্রা কমায় ।

  • কালোজাম : রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে কালো জাম ব্যাপক সাহায্য করে । কালোজামে রয়েছে : এ্যান্টসায়ানিনস , হাইড্রোসিলাইলেবল, এলাজিক এসিড । কালোজামা রক্ত শূন্যতা ও হার হ্ময় রোগ দূর করতে সাহায্য করে । আমাদের মুখে বিভিন্ন ইনফেকশন রয়েছে । কালোজাম মুখের ইনফেকশন দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে ।


কালোজামের পাতা বীজ সবিই ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য খুবিই উপকারি । কালোজামের বীজ রক্তের সুগার এবং মূত্রের সুগার দ্রুত কমিয়ে দেয় । কালোজাম ডায়াবেটিস কমানোর উপায় হিসাবেও পরিচিত ।

  • সূর্যের আলো : ডায়াবেটিস কমাতে সূর্যের আলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । কারন সূর্যের আলোতে রয়েছে ভিটামিন ডি । তাই ভিটািমিন ডি এর অভাব থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে । সুতরাং আপনাকে প্রতিদিনি ৩০ মিনিট রোদে থাকতে হবে ।

ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল তার উত্তর হলো : HBA1c এর মান যদি ৫.৭ এর নিম্নে থাকে তাহলে ডায়াবেটিস নরমাল । আর যদি ৬.৫ এর বেশি হয় তাহলে বুঝতে হবে ডায়াবেটিস আছে ।

আবার HBA1c এর মান যদি ৫.৭ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকে তাহলে প্রি ডায়াবেটিস হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

সাধারণত ডায়াবেটিস মাপাতে হয় গ্লকোমিটারের সাহায্যে আমাদের হাতের আঙ্গুলে ডগায় রক্তনালী থেকে । আবার আমাদের হাতের শিরা থেকে রক্ত নিয়ে হাসপাতালে ব্লাড সুগার মাপা হয় ।

ডায়াবেটিস এর টইপ-১ কে দুই ভাগে ভাগ করা যায় : type-1 A and type-1 B ।

টাইপ-১ এ : বিটা কোষের ধ্বংসের কারনে যা অটোইমিউনিটির জন্য হয়ে থাকে ।


টাইপ-১ বি : এর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি তবে এটিও বিটা কষের জন্য হয়ে থাকে ।


টাইপ-১ ও টাইপ-২ এর মধ্যে তুলনা করলে আমরা বিভিন্ন বিষয় খেয়াল করতে পারি তা হলো :

  • টাইপ-১ এর আক্রান্ত হবার সময় কাল দ্রুত সেই তুলনায় টাইপ-২ এর আক্রান্ত হাবার সময়কাল ধীর

  • বেশিরভাগ হ্মেত্রে শিশুরাই টাইপ-১ এ আক্রান্ত হয় । অন্যদিকে টাইপ-২ এ পরিণত বয়সের ব্যক্তিরাই আক্রান্ত হয় ।

ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে করণীয়

ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে করণীয় হলো : নিয়মিত হাটা , ব্যায়াম করা , কার্বহাইড্রেট যুক্ত খাবার পরিত্যাগ করা , পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া , নিয়মিত ঘুমাতে হবে ।

  • খাবার : আপনার খাবার নিয়ন্ত্রন করতে হবে । মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে নাহ । যেমন : চিনি , মিষ্টি , সন্দেশ , শেমাই , পায়েস ইত্যাদি ।

  • আপনাকে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে এবং চিনি মুক্ত খাবার খেতে হবে । কারণ এইগুলোই হলো ডায়াবেটিস কমানোর উপায় । এছারাও তেতো যুক্ত খাবারের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে ।

  • রক্তে সুগারের পরিমান : আপনাকে নিয়মিত রক্তে সুগারের পরিমাণ মাপতে হাবে । এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ব্লাড সুগার সঠিক ভাবে যদি পরিমাপ করা না হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে ।

  • ওজন : ওজন কম রাখতে হবে । ওজন কম রাখলে চিনিরি মাত্রা কমে যায় ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন থাকে ।

  • তেল: সাস্থ্যকর তেলে খেতে হবে । বাজাারে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ওমগো থ্রি তেল আছে যা অনেক উপকারী ।

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

ডয়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকার মধ্যে রয়েছে : ফলমূল , শাকসবজি , চালের ভাত , আলু এবং লাল আটার রুটি ।


জটিল শর্করা যুক্ত খাবার খেতে হবে । যেমন : ভুসি যুক্ত আটার রুটি জটিল শর্করা যুক্ত খাবার । এই খাবারে ডায়াবেটিস তেমন বারবে নাহ বরং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকবে ।


মাছ : মাছ হলো আমিষ যুক্ত খাবার তাই এটি খেতে পারেন । অন্ত্রে চর্বিজমার ফলে শর্করা বেশি শোষণ হতে পারে নাহ । এর জন্য আমাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পরে ।

ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য গ্লাইসেমিক যুক্ত খাবার খেলে ভালো সুফল পাওয়া যায় ।


সুষম খাদ্য : সুষম খাদ্য আমাদের জন্য খুবিই গুরুত্বপূর্ণ কারন এটি অকাল মৃত্যু থেকে রহ্মা করে । পুষ্টির অভাবে যে রোগ হয় তা প্রতিরোধ করতে সহযোগিতা করে । সুষম খাদ্য মূলত ছয়টি উপাদান নিয়ে গঠিত ।

  • আমিষ জাতীয় খাদ্য : মাছ , মাংস ।
  • শর্করা : শর্করা জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে রুটি ।
  • চর্বিজাতীয় খাবার
  • ভিটামিন
  • খনিজ লবন এবং
  • পানি

এই খাবার গুলো কে এক সাথে বলা হয় । সুষম খাদ্য ।

সাদা ভাত : সাদা ভাত এই রোগের জন্য যুকি পূর্ণ । তাই বেশি পরিমানের সাদা ভাত খাওয়া যাবে নাহ ।

ধূমপান পরিহার করা : ধূমপান পরিহার করা ডায়াবেটিস কমানোর উপায় । ধূমপান মানুষকে হ্মতিগ্রস্থ্য করে । অনেক গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপান সকল রোগের সূচনা করে । তাই আমাদের ধূমপান পরিত্যাগ করতে হবে ।

নিম পাতা: প্রতিদিন ৪-১০ টি নিম পাতা খেলে অনেক ভালো ফলাফল পাওয়া যায় । নিম গাছের সকল কিছুই আপনি খেতে পারেন । নিমে রয়েছে ভিটামিন ই এবং ফ্যাটি এসিড । এটি ব্যাকটিরার আক্রমণ থেকে রহ্মা করে।

Leave a Comment