ভরাপেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল । ডায়াবেটিস কমানোর উপায় 2022

ভরাপেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল এর উত্তরটি হলো : যদি ভরাপেটে রক্তে glucose এর পরিমান ১০ মিলি বা এর কম হয় তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নরমাল ।

কিভাবে বুঝবেন ভরাপেটে বা খালিপেটে আপনার ডায়াবেটিস কত ??

খালিপেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল
খালিপেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

খালিপেটে ডায়াবেটিস : আপনাকে সারা রাত বা ৮-১০ ঘন্টা না খেয়ে থাকতে হবে । তাহলে খালিপেটে আপনি ডায়াবেটিস মাপতে পারবেন । স্বাভাবিক ফলাফল সর্বদা ১০০ এমজি/ডিএল হয়


প্রিডায়াবেটিক এর পরিমাপ করা হয় ১০০-১২৫ এমজি/ডিএল হলে

তাহলে কখন বুজবেন আপনার ডায়াবেটিস হয়ে গেছে ?

এর উত্তর হলো : যখন দেখবেন ১২৬ এমজি/ডিএল তখন আপনার ডায়াবেটিস হয়ে গেছে ।

ভরাপেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল
ভরাপেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

ভরাপেটে ডায়াবেটিস : ভরা পেটে ডায়াবেটিস পরিহ্মা করার জন্য আপনাকে সকালে খাওয়ার ২-৩ ঘন্টা পর আপনার রক্তের নমুনাটি সংগ্রহ করবেন । সকালে যাদি ৭৫ গ্রাম শর্করা, খাবারের সাথে রাখেন তাহলে অনেক ভালো । আপনার শরীর শর্করাকে সঠিক ভাবে পরিচালনা করছে কি না এটাই এই পরিহ্মার মূল উদ্দেশ্য । যদি ফলাফল ১৪০ এমজি/ ডিএল হয় তালে ধরতে পারেন এটি অস্বাভাবিক

ঘরে বসে কিভাবে ডায়াবেটিস পরিহ্মা করবেন

ভরাপেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল আমরা ইতিমধ্যেই জেনে গেছি এখন আসুন আমরা জানবো ঘরে বসে কিভাবে ডায়াবেটিস পরিহ্মা করবেন
এর জন্য আপনার প্রয়োজন হবে গ্লুকোমিটার নামক একটি ভালো যন্ত্র । যেটার সাহায্যে আপনি ঘরে বসে পরিহ্মা করতে পারবেন ।


নিম্নে দেওয়া হলো কিভাবে এই পরিহ্মাটি করবেন :

  • প্রথমে আপনার হাত ডেটল বা সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে জীবানুমুক্ত করে সুকিয়ে নিতে হবে ।
  • দ্বিতীয় ধাপে আপনাকে যন্ত্রের ভিতর টেষ্ট স্ট্রিপ বসাতে হবে ।
  • তৃতীয় ধাপে আপনার আঙ্গুলের ডগায় একটি ফুটো করতে হবে টেষ্ট কিটের মাধ্যমে
  • ফুটো করার পর আঙ্গুলের মাথায়া দেখবেন রক্ত বের হচ্ছে । যদি রক্ত বের না হয় তাহলে চাপ দিয়ে এক ফোটা রক্ত বের করতে হবে। এই রক্তের ফোটাটি টেষ্ট স্ট্রিপের উপর ফেলতে হবে ।
  • এর পর কিছুহ্মন অপেহ্মা করলেই দেখতে পারবেন আপনার ফলাফলটি ।

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

আমাদের চারপাশে ডায়াবেটিস রোগীর অভাব নেই । ডায়াবেটিস এর ফলে প্রতিদিন অনেক মানুষ মারাত্মকভাবে হ্মতিগ্রস্থ হচ্ছে এবংকি অনেক মানুষ মারা যায় অতিরিক্ত ডায়াবেটিস এর জন্য । ডায়াবেটিস কমানোর অনেক উপায় রয়েছে তাদের মধ্যে কিছু উপায় নিম্নে আলোচনা করা হলো :

  • আপনার খাবরকে সঠিক মাত্রায় নিয়ন্ত্রন করতে হবে । কারন খাবারের কারনেই অধিকাংশ মানুষ মারা যায় ।

  • রুটি , তেতো খাবার ডায়াবেটিস রোগির জন্য অনেক ভালো । এই গুলো খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন থাকে ।
  • পরিমানমত পানি খেতে হবে । আমারা প্রতিদিন খুবিই অল্পপরিমানে পানি খাই তাই আমাদের উচিত দৈনিক ৪-৫ লিটার পানি পান করা । পানি শূন্যতার কারনেও ডায়াবেটিস মারাত্মক রূপ নিতে পারে ।

  • আমরা যদি নিয়মিত চর্বিজাতী খাবার খেয়ে থাকি তাহলে আমাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব ।

  • আপনাকে খাবারের একটা চার্ট তৈরি করতে হবে । সেই চার্ট অনুযায়ী আপনাকে খাবর খেতে হবে ।ভরাপেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল এই পরিহ্মাটি মাঝে মধ্যে করলে ভালো । এতে করে আপনার ডায়াবেটিস সর্ম্পকে একটি ভালো ধারোনা থাকবে। খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল এই পরিহ্মাটিও করে রাখা ভালো ।

কি খেলে ডায়াবেটিস হবে না

আপনাকে এমন সব খাবার খেতে হবে যেগুলো চিনি মুক্ত । চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার ডায়াবেটিস রোগিদের জন মারাত্মক রূপ নিতে পারে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে । যেমন: মধু , কফি , চা, কেক ।

  • সুষম খাবার খেতে পারেন । সুষম খাবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত ভালো । সুষম খাবারের মধ্যে অন্যতম খাবার হলো : মাছ ।

  • আমলকি খেতে পারেন । এছারাও তেতো যুক্ত খাবার খেতে পারেন । তেতো যুক্ত খাবারের তালিকায় রয়েছে আমলকি , হরতকি , করলা জিঙ্গা ।

  • নিয়মিত শরীর চর্চা এবং ইনসুলিনের ডোজ পরির্বতন ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য ভালো ।
    শরীর চর্চা আপনার শরীলের শক্তি যোগাবে এবং রোগ প্রতিরোধ করার হ্মমতা বৃদ্ধি করবে ।

  • ভাজা পোরা খাবার , চকলেট এইসব খাবার পরিত্যাগ করতে হবে ।

ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয়

ডায়াবেটিস শর্করা HBA1 C ১০ শতাংশের বেশি হলে ইনসুলিন নিতে হবে ।

  • আপনার যদি যকৃতের সমস্যা থাকে বা কিডনির সমস্যা থাকে তাহলে আপনাকে ইনসুলিন নিতে হবে ।

  • অনেক সময় সাময়কিভাবে ওষুধ বন্ধ করে দিতে হয় যদি আপনি জন্ডিসে আক্রান্ত হন ।

  • রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে স্যালাইনের মাধ্যমে ইনসুলিন দেওয়া হয় । রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় । তাদের মধ্যে অন্যতম হলো: কিটোএসিডোসিস এবং হাইপারঅসমলার
  • ভরাপেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল এই পরিহ্মাটি করেও আপনি ইনসুলিন নিতে পারেন ।এছারাও আপনার যদি জানা থাকে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় কি তাহলে আপনাকে আর ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হবে নাহ ।

ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়

ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয় তা নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

  1. ডায়াবেটিস এর কারনে হ্মুদা বৃদ্ধি পায় ।
  2. মেজাজ খিটখিটে থাকে
  3. ঘন ঘন প্রস্রাব আসবে
  4. ঠিক মত ঘুমাতে পারবেন নাহ
  5. অসস্থি অনুভব করবেন
  6. মুখ শুকিয়ে যাবে । কারন ডায়াবেটিস হলে রক্তের শর্করার মাত্রা কমে যায় যার ফলে আপনার মুখের লাবণ্যতা ধীরে ধীরে কমে যাবে । মুখ গলা শুকানোর জন্য টাইপ-১ ডায়াবেটিস ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস উভয় দায়ী ।
  7. ডায়াবেটিস এর ফলে দেহে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় । আর চিনিরি পরিমান বৃদ্ধির ফলে জীবাণুর সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় । যার কারনে আমাদের মুখের মারি বা দাতের চারপাশে এর প্রভাব দেখা দেয় ।
  8. যদি আপনার মারিতে এর প্রভাব হয় তাহলে অবশ্যই আপনার দাতের হ্মতি হবে । যার কারনে এক সময় আপানর দাতে ফাকা স্থান বেড়ে যাবে ।আপনার ওজন ধীরে ধীরে অনেক কমতে থাকবে যার ফলে আপনি দুর্বল হয়ে যাবেন ।
  9. আপনি চোখে ভালো করে স্পষ্ট দেখতে পারবেন নাহ ।
  10. যারা নিয়মিত ধূমপান করে তাদের এইরোগ বেশি দেখা দেয় । কারন ধূমপানের ফলে আপনার শরীলের রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে ।

ডায়াবেটিস হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে

ডায়াবেটিস হলে কি কি ফল খাওয়া যাবে তা জানা জরুরি । কারন আমাদের চারপাশে অনেক লোক রয়েছে যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত । তাই নিজেকে এবং অন্যদেরকে সতর্ক করার জন্য আমাদের এই তথ্যগুলো খুবিই উপকারে আসবে ।

  • আমরা ইতিমধ্যে জেনে গেছে সুগারের পরিমাণ বেশি হলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবিই বিপদজনক । প্রায় সকল ফলেই সুগার থাকে । তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ফল খাওয়ার আগে জান উচিত কোন ফল খেলে তাদের উপকার করবে আর কোন ফল তাদের হ্মতি করবো ।

  • গ্লাইসোমিক ইন্ডেক্স বেশি এই সকল ফল খাওয়া যাবে নাহ । কারন এই সব ফল রক্তে সুগারের পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেয় ।

  • তরমুজ , খেজুর হলো উচ্চ গ্লাইসোমিক ইন্ডেক্স যুক্ত ফল তাই এই ফল খাওয়া যাবে নাহ ।

  • আবার গ্লাইসোমিক ইন্ডেক্স কম এই ধরনের সকল ফল খাওয়া যায় । এই গুলো রক্তে সুগারের পুরমাণ বৃদ্ধি করে নাহ । পেয়ারা , আম , আনারস , পেপে , লিচু , আতা ফল, কলা , নাশ পতি ।

ডায়াবেটিস হলে কি কি খাওয়া যাবে -না

ডায়াবেটিস হলে কি কি খাওয়া যাবে তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো :

  • ব্রাউন পাওয়ারুটি খেতে পারেন । এতে বিভিন্ন উপাদান রয়েছে যা ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য অনেক ভালো । ব্রাউন পাওয়ারুটিতে কোনো চিনি থাকে নাহ তাই সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে । এতে পর্যাপ্ত পরিমানের কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং ফাইবারও বিদ্যমান ।

  • অ্যাভোকাডো ফলে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে । তাই আপনি চাইলে অ্যাভোকাডো ফল খেতে পারেন । আপনি চাইলে এটি খেয়ে পরিহ্মা করেত পারেন ভরাপেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল যা আপনার উপকারে আসবে ।

  • ওটস বা ডালিয়া খিচুরির মতো রান্না করে খেতে পারেন । এইগুলো ফাইবার জাতীয় ফল ।

  • চিনি ছারা প্রায় সকল খাবর ডায়াবেটিস রোগীর জন্য উপকারী । তাই চিনি ছারা চা খেতে পারেন । এছারাও চিনি ছারা পায়েস খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায়

১৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে শুধু মাত্র এই ডায়াবেটিস এর কারনে ২০১৬ সালের গবেষনায় দেখা গেছে ।

তাই আমাদের জানা দরকার ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায় । এতে করে আমরা সতর্ক হতে পারবো এবং অন্যকেও সর্তক করতে পারবো । তবে এর সঠিক উত্তর এখনো কেও জানে না । তবে অতিরিক্ত ডায়াবেটিস বেরে গেলে আপনার হার্ট অ্যাটাকের মতো বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে ।

ডায়াবেটিস কি খেলে ভালো হয়

ডায়াবেটিস কি খেলে ভালো হয় এটি একটি কমন প্রশ্ন । এর উত্তর টি হলো আপনি আপেল খেতে পারেন ।

  • কারন আপেলে রয়েছে : হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করার শক্তি । যার কারণে আমাদের খাবার দ্রুত হজম হয় ।

  • আপেল এর বিশেষ কিছু গুণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে অনেক সহযোগিতা করে ।

  • আপেল ডায়াবেটিস এর সমস্যা কমায় । আপনি যদি প্রতিদিন ১ টি করে আপেল খাওয়ার অভ্যাস করেন তাহলে আপনার ডায়াবেটিস ২৮ শতাংশ কমে যাবে ।

ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় হবে

বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গেছে , যদি আপনার শরীলের কোষ প্রতিস্থাপন করা যায় তাহলে তাৎহ্মনিক ইনসুলিন তৈরি করা সম্ভব যা ডায়াবেটিস নিরাময়ে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে ।

  • এই প্রতিস্থাপিত কোষগুলো মানব শরীলের গ্লুকজের লেবেল অনুসারে ইনসুলিন তৈরি করতে সম্ভব ।

  • এই কোষ গুলো ১৭৪ দিনের মতো সময় নেয় শরীলের জন্য পরিমাণমত ইনসুলিন তৈরি করতে ।

  • ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় হবে এমন ওষুধ এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয় নাই । তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করার বিভিন্ন উপায় আমরা উপরে আলোচনা করেছি ।

Leave a Comment