মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ । মাথা ব্যথা হলে করণীয় কি 2022

মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ এর উত্তরটি হলো : যদি মাথা ব্যথা আপনার চারপাশেই হয় এবং মাথার স্পন্দন অনুভূত হয়ে থাকে, তাহলে তা মাইগ্রেনের সমস্যার কারণ হতে পারে। মাইগ্রেনের ভোগার অনেকটি কারণ রয়েছে , এখান থেকে মুক্তি পাওয়া খুব একটা সহজ নয়। মাইগ্রেনের ব্যথা অনেক বেশি হয়ে থাকে , এতে আমাদের প্রতিদিনকার কাজে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে ।

  • যদি মস্তিষ্কে রক্তহ্মরণ হয়
  • মস্তিষ্কের বাইরে রক্তহ্মরণ হয়
  • যদি মস্তিষ্কে টিউমার থাকে অথবা মানসিক চাপ থাকে বা অতিরিক্ত পেসার থাকে তাহলে মাথা ব্যথা হতে পারে ।

মাথা ব্যথা আমাদের একটি পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। মাথা ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে এবং বমি হলে ডমপেরিডন খাওয়া যেতে পারে । তীব্র মাথা ব্যথা হলে ট্রিপটেন জাতীয় ঔষধ যেমন- almitriptane খেতে হবে।

  • মাথা ব্যথা যদি প্রতি মাসে দুইবারের বেশি হয় এবং ১২ঘণ্টার বেশি হয় বা তীব্র ব্যথা হয়ে থাকে তাহলে এর প্রতিরোধের জন্য আমাদের বিটাব্লকার, এমিট্রিটাইসিন ব্যবহার করতে হবে।

  • মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ এর একটি উদাহারন হলো Cluster headache। এই ধরনের মাথাব্যথা আমাদের খুব কম হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে আমাদের চোখের এক পাশের চর্তুদিকের তীব্র ব্যথা হয় Cluster headache এর কারণে।

  • মাথা ব্যথার কারণে একই পাশে চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়ে এবং চোখ লাল হয়ে থাকে। Cluster headaehe কারণে মাথা ব্যথা ১৫ থেকে ১৮০ মিনিট হয়ে থাকে। প্রতিদিন ১-২ বার হতে পারে।

  • Cluster headache জন্য একনাগাড়ে কয়েক দিন এবং কয়েক সাপ্তাহ মাথাব্যথা হতে পারে। তারপর কয়েক মাস এবং কয়েক বছর মাথাব্যথা ভালো থাকে।

প্যারাসিটামল :


প্যারাসিটামল একটি সুভল ঔষধ যা জ্বর ও ব্যথার কারণে ব্যাবহার করা হয়ে থাকে যা পানিতে সহজেই দ্রবণীয় । প্যারাসিটামল অনেক উপকারি হলেও এর কিছু পার্শপ্রক্রিয়া রয়েছে ।

যেমন : যকৃত এবং লিভারের জন্য প্রচন্ড হ্মতিকারক অনেক সময় মৃত্যুর ঝুকিও হতে পারে । এছরাড়াও যাদের এলার্জি আছে তাদের জন্য এই ঔষধ ঝুকিপূর্ণ তাই ডক্টরের পরাামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল ব্যাবহার করা যাবে নাহ ।

  1. আপনি যদি একটানা অনেক দিন ধরে প্যারাসিটামাল সেবন করে থাকেন তাহলে আপনার স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনাও হতে পারে । মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ তা সমাধান করার জন্য আমরা ডক্টরের পরামর্শ নিতে পারি ।
  2. প্যারাসিটামল বিভিন্ন রোগের জন্য ব্যাবহার করা হয় । যেমন: জ্বর , ঠান্ডা , মাথা ব্যথা । তাবে এটি ব্যাবহারের কারনে অনেকের বমি বমি ভাব হয় ।

মাথার মাঝখানে ব্যথার কারন কি

মাথার মাঝখানে ব্যথার কারন কি
মাথার মাঝখানে ব্যথার কারন কি

মাথা ব্যথার খুব পরিচিত দুইটি কারণ হলো মাইগ্রেন ও টেনশন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ হলো টেনশন টাইপ হেডেক।

১১ শতাংশর জন্য দায়ী হলো মাইগ্রেন। মাথার মাঝখানে ব্যথার অন্যতম কিছু কারন হলো :

  • ধুমপান
  • মধ্যপান
  • মাদকাসক্তি
  • অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ সেবন
  • রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহওয়া
  • অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করা
  • মানসিক চাপ ইত্যাদি কারনে মাথা ব্যথা হয়ে থাকে।

মাথা ব্যথা থেকে পরিত্রান পেতে হলে আমাদের এইসব অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।


মাইগ্রেনর কারণে কি কি সমস্যা হতে পারে তা নিচে আলোচনা করা হলো:

  • মাথার যেকোন একপাশে ব্যথা হতে পারে। এক পাশে ব্যথা হলে আরেক পাশেও হতে পারে

  • মাথার দুই পাশেই রক্তনালি বা রগ টনটন করছে বলে মনে হয়।

  • মাথা ব্যথার তীব্রতায় আপনি কোন কাজে মন যোগ দিতে পারবেন না।

  • আলো বা শব্দের কারণে মাথাব্যথা বেড়ে যায়

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

  • মাথাব্যথার কারনে বমি হতে পারে

  • মাথা ব্যথার শুরু হওয়ার আগে চোখের সামনে লাইটের আলোর মতো নাচানাচি বা আঁকাবাঁকা লাইন ইত্যাদির কারণে হতে পারে।

  • অন্ধকারে থাকলে মাথা ব্যথা কমে যায়।

  • মাথার মাঝখানে ব্যথা হলে এটি কয়েক ঘণ্টা বা কয়েকদিন পর্যন্ত হতে পারে। পারিবারিক চাপ বা বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তার জন্য আপনার মাথা ব্যথা হতে পারে ।

মাথা ব্যথা হলে করণীয় কি । মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ

আপনার যদি মাথা ব্যথা হয় তাহলে আপনি চা বা কফি খেতে পারেন। চা বা কফিতে উপস্থিত ক্যাফিন মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করে ।

লাল চায়ে আদা-লবণ ও মধু মিশিয়ে খেলে এতে মাথায় অনেক আরাম লাগে।

কাজের চাপে বা অতিরক্ত পরিশ্রম করার কারনে মাথাব্যথা হতে পারে। তবে মাথাব্যথা করলে অবশ্যই ঘুমাতে হবে। আর চিকিৎসা নিতে হবে। মাথা ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরার্শম ছাড়া ঔষধ খাওয়া মোটেও ঠিক না। এসব ঔষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে ঘরোয়া উপায়ে দূর করতে পারেন মাথাব্যথা।

আসুন জেনে নিই কিভাবে ঘরোয়ার উপায়ে মাথাব্যথা দূর করা যায়।

  • যখন আপনার মাথা ব্যথা করবে তখন ঘারের কাছে যে রগ রয়েছে তাতে হাতের আঙুল দিয়ে ম্যাসাজ করলে আরাম পাবেন। ক্লান্তির কারনে যদি মাথাব্যথা করে তাহলে এই ম্যাসাজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

  • অতিরিক্ত আলো বা শব্দের কারনে মাথাব্যথা হয়ে থাকে। যদি মাথা ব্যথা করে তাহলে ঘরের আলো কমিয়ে দিন আর শব্দ থেকে দূরে থাকুন।

  • কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইল থেকে যে আলো আসে তা আমাদের চোখের হ্মতি করে । এর ফলে আমাদের চোখ ব্যথা করে এছাড়াও চোখ ব্যথার কারনে মাথা ব্যথাও হয় । ফোন থেকে দূরে থাকুন কারন এগুলো আপনার মাথা ব্যথা তীব্র করে। আর বাইরে থাকলে ভালো মানের চশমা ব্যবহার করুন।

কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইলের যে আলো আছে তা আমদের চোখে প্রবেশ করে । এতে চোখে অনেক চাপ পড়ে। চোখ লাল হয়ে থাকে এবং চোখ জ্বালা পোড়া করে। অন্ধকারে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে এতে অন্ধত্ব না হলেও চোখের দৃষ্টি কমে যেতে পারে । আর এটা যদি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে তাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি চলে যেতে পারে। চোখ দিয়ে জল পড়া বা ড্রাই আই-এর সমস্যা হতে পারে। এর ফলে আমাদের মাথাব্যথা হতে পারে।

সঠিক খাবারের অভাব:

মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ এর উত্তরটি হতে পারে খাবারের অভাব ।
খাবারের কারনেও আমাদের মাথাব্যথা হতে পারে। কি কি কারনে মাথাব্যথা হতে পারে তা নিচে দেখানো হলো-

১. অনেক সময় খাবারও আমাদের মাথাব্যথা কারন হয়। খাবার হজম না হলে গ্যাস থেকে আমাদের মাথাব্যথা হতে পারে। তাই গ্যাস যেনো না হয় এই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে ।

২. সঠিক ভাবে যদি না বসেন বা ঠিক মতো সোজা হয়ে ঘুমাতে না পারেন শিরদাঁড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যথা ছড়াতে পারে। তার সাথে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শোয়া কিংবা বসার পজিশন ঠিক করে নিন

মাথা ব্যথার ঔষধ


যদি মাথাব্যথা আপনার তীব্র হয় তাহলে আপনি ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ নিতে পারেন।

সাধারণত এই ঔষধ গুলো কে তিন ভাগে ভাগ করা যায় :


উপসর্গ অনুযায়ী ঔষধ :

এই ঔষধ গুলি খুব সহজে বাজারে পাওয়া যায়। যেমন প্যারাসিটামল, এসপিরিন বা ইবুপ্রোফেন। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে অধিক মাত্রায় ঔষধ সেবন ভালোর চেয়ে খারাপ বেশি করতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো হলো ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ সেবন করা।

ব্যর্থকারী ঔষধ:

মাথা ব্যথার প্রথম লক্ষণ গুলি দেখা দিলেই এই ঔষধ গুলি ব্যথার বৃদ্ধিকে বাধা দেই। এই ঔষধ গুলোর মধ্যে রয়েছে ইনজেকশন দেওয়ার জন্য এরগোটামিন এবং সুমাট্রিপিন। তবে এই গুলো কিনতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে

প্রতিরোধক ঔষধ :

মাথা ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ এটি জানার জন্য বা এর থেকে পরিত্রানের জন্য আপনি প্রতিষোধক ঔষধ ব্যাবহার করতে পারেন ।

মাথাব্যথা যদি খুব বেশি তীব্র হয়ে থাকে বা বারে বারে হয়। তাহলে এই ঔষধ গুলি ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে এন্টিডিপ্রেসান্ট, এমলোডিপিন,এন্টািহিস্টামিনস, ফেরিরামিন এবং ভালপ্রোয়েট। এই গুলি ডাক্তারের পরামর্শ সেবন করুন।

Leave a Comment